"প্রত্যেক নর-নারীর জন্য দ্বীনি শিক্ষা ফরজ - আল হাদিস"

ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

ডাকঘর: ভাওয়াল, উপজেলা: সালথা, জেলা: ফরিদপুর
স্থাপিত: ১৯৮৩, প্রতিষ্ঠান কোড: ১১৬০০, EIIN: ১০৮৮৯৩

Home Institution History

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

ইতিহাস
প্রতিষ্ঠার পটভূমি

ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার ইউসুফদিয়া গ্রামে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এলাকার স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, আলেম-ওলামা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের যৌথ উদ্যোগে ১৯৮৩ সালে ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইসলামিক অনুশাসন ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটানোর প্রধান কারিগর ছিলেন বর্তমানে অত্র প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অধ্যক্ষ মোঃ আবু ছায়েম মোল্যা।

প্রতিষ্ঠাকাল
  • প্রতিষ্ঠার সাল: ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ

  • প্রতিষ্ঠার তারিখ: ১ জানুয়ারি ১৯৮৩

  • প্রাথমিক পরিচিতি: দাখিল মাদ্রাসা হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

  • পরবর্তী অগ্রগতি: ২০১২ সাল থেকে আলিম পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ইবতেদায়ি থেকে ফাজিল পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা
  • প্রতিষ্ঠাতার নাম: মরহুম মাওলানা আব্দুল ওহাব মোল্যা
  • জমিদাতার নাম: মো: জিন্নাত আলী, মোঃ শাহজাহান আলী, কারী মোহাম্মদ আলী, মোঃ আজিজুল হক, রফিকুল ইসলাম।

  • প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নাম: আবুল কালাম শামসুদ্দিন

অবস্থান পরিচিতি
  • প্রতিষ্ঠানের নাম: ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা
    গ্রাম: ইউসুফদিয়া
    ইউনিয়ন: ভাওয়াল ইউনিয়ন
    উপজেলা: সালথা
    জেলা: ফরিদপুর
    বিভাগ: ঢাকা
  • মাদ্রাসাটি সালথা উপজেলা সদরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। পাকা সড়ক থেকে প্রায় ৫০০ মিটার ইটের রাস্তা পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে হয়। এর আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ শান্ত ও শিক্ষাবান্ধব।
স্বীকৃতি ও এমপিও
বিষয় তথ্য
দাখিল পর্যায়ের স্বীকৃতি ১ জানুয়ারি ২০০১
দাখিল পর্যায়ের এমপিও  মে ২০০৪
আলিম পর্যায়ের কার্যক্রম চালু ২০১২ সাল
আলিম পর্যায়ের স্বীকৃতি ও এমপিও ২০১৪ ও ২০২২ সাল
ফাজিল পর্যায়ের অনুমোদন ও অধিভুক্তি ২০২২
শিক্ষা বোর্ড  বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়
অবকাঠামোগত উন্নয়ন
  • বর্তমানে মাদ্রাসাটি প্রায় দুই একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত
    • একটি চারতলা একাডেমিক ভবন

    • একটি তিনতলা ভবন

    • একটি টিনশেড ভবন

    • আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব

    • পাঠাগার

    • খেলার মাঠ

    • নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্র।

শিক্ষা কার্যক্রম

ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় বর্তমানে ইবতেদায়ি থেকে ফাজিল পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। শুরুতে দাখিল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীকালে আলিম পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে:

    • ইবতেদায়ি স্তর: প্রাথমিক পর্যায়ের মাদ্রাসা শিক্ষা

    • দাখিল স্তর: মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা

    • আলিম স্তর: উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা

    • ফাজিল স্তর: স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা

      ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

ফলাফল ও সাফল্য

ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা দাখিল পরীক্ষার ফলাফল, খেলাধুলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সাফল্য অর্জন করেছে।

  • ২০২৬ সালে দাখিল পর্যায়ে মাদ্রাসাটি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।

  • প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে প্রায় আটবার শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা নির্বাচিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • গত পাঁচ বছরের গড় হিসাবে দাখিল পর্যায়ে পাসের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং আলিম পর্যায়ে প্রায় ৯০ শতাংশ।

  • শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করে আসছে।

  • বর্তমান অধ্যক্ষ মওলানা মো. আবু ছায়েম মোল্যা উপজেলা পর্যায়ে প্রায় আটবার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন।

বর্তমান অবস্থা
  • শিক্ষার্থীর সংখ্যাঃ ৪০০+
  • শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যাঃ ৩২ জন
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সম্ভাবনা

প্রতিষ্ঠানটির অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা এবং শিক্ষার মান আরও উন্নত করার জন্য নিম্নলিখিত পরিকল্পনাগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে:

১. শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা চালু করা।

২. যাতায়াতের সুবিধার্থে মাদ্রাসার সংযোগ সড়ক পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া।

৩. কম্পিউটার ল্যাব ও ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ করা।

৪. পাঠাগারে ধর্মীয়, সাহিত্যিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

৫. দাখিল, আলিম ও ফাজিল পর্যায়ে পরীক্ষার ফলাফল উন্নয়নে নিয়মিত মূল্যায়ন ও বিশেষ পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা।

৬. খেলাধুলা, বিতর্ক, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।

৭. দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি এবং আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা।

৮. প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ইতিহাস, শিক্ষক-কর্মচারীর পরিচিতি, ফলাফল, নোটিশ, ছবি ও অর্জনের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা।

 

Scroll to Top